
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম ৭ দিনে (২১-২৮ জানুয়ারি) দেশে কমপক্ষে ৪২টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪ জন নিহত এবং ৩৫৩ জন আহত হয়েছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুসারে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর (১-২৮ জানুয়ারি) মোট ৬৫টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ৫৫৫ জন আহত হয়েছে।
সহিংসতার অধিকাংশ ঘটনা বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী (ও ১১-দলীয় জোট) এবং এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। জামায়াতের নারী কর্মী-সমর্থকরা বিশেষভাবে হামলা, হেনস্তা ও বোরকা-নেকাব খোলার মতো অপমানের শিকার হয়েছেন। আসক এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত। পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থানার ওসি ও ইউএনওকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এটি এবারের নির্বাচনে সহিংসতায় প্রথম ব্যবস্থা।
ঢাকার বিভিন্ন আসন (যেমন ঢাকা-৮, ১৮), নাটোর, ভোলা, লালমনিরহাট, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, যশোর, কিশোরগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরসহ একাধিক জেলায় সংঘর্ষ, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণ।
এনসিপি প্রার্থীদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কোনো পক্ষ নেবে না এবং শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সীমিত থাকবে। শেরপুরের ঘটনায় পুলিশ দাবি করেছে, তারা নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছে কিন্তু বড় দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক ছিল।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
বিএনপি: শেরপুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি।
জামায়াত: বিএনপির হামলা ও নারী কর্মীদের হয়রানির তদন্ত ও বিচার চায়।
মানবাধিকার সংস্থা (যেমন এইচআরএসএস): সহিংসতার নিন্দা করে সহাবস্থানের আহ্বান।
নির্বাচন কমিশন ও সরকার শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সচেষ্ট বলে জানিয়েছে। ভোটের দিনে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। তবে সহিংসতার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।