1. admin@banglarajkal.com : admin :
  2. babardhaka@gmail.com : babar dhaka : babar dhaka
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় জনতা আদর্শ বিদ্যাপীঠের দুর্দান্ত সাফল্য ‘লাইফ টু ওয়ে গ্লোবাল’ এবং ‘মডার্ন ক্যানসার হাসপাতাল গুয়াংজু’র যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় ক্যানসার রোগীদের পরামর্শ যেকারণে কিছু ব্যক্তির জন্য ওজন কমানো বেশি কঠিন সাহারা মরুভূমিতে ট্রাক বিকল, তৃষ্ণায় ৪৯ জনের মৃত্যু ইরানের দুই রাডার কেন্দ্রে হামলা চালানোর দাবি যুক্তরাষ্ট্রের তপুর জোড়া গোলে সান ম্যারিনোকে হারালো বাংলাদেশ কৃষিতে সংকটের ছায়া, বাজেটে বাড়বে কি কৃষকের প্রাপ্তি? অফারে স্মার্টফোনের বিক্রি বাড়লেও দাম নিয়ে অসন্তোষ  বর্ষার আগেই মশার উপদ্রবে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু ইস্তাম্বুলে আজ নির্ধারিত হবে ইরানের বিশ্বকাপ ভাগ্য!

সামান্য ভুলে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

বাংলার আজকাল ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৫০

নিয়মিত রাত জাগা ও দেরিতে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।

নিয়মিত রাত জাগা ও দেরিতে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে-এমন সতর্কতার কথা জানিয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণা। গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা ‘নাইট আউল’ বা সন্ধ্যাকালীন মানুষ হিসেবে পরিচিত, অর্থাৎ রাতে বেশি সক্রিয় থাকেন এবং দেরিতে ঘুমান, তাদের হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

জার্নাল অব দ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত এই গবেষণায় তিন লাখেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৫৭ বছর। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত দেরিতে ঘুমান, তাদের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি ভোরে ওঠা মানুষদের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৮ শতাংশ নিজেদের ‘সম্পূর্ণ সন্ধ্যাকালীন মানুষ (ইভিনিং পারসন)’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ‘সম্পূর্ণ সন্ধ্যাকালীন মানুষ’ আর রাতজাগা মানুষ এক জিনিস নয়, তবে দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ‘সম্পূর্ণ সন্ধ্যাকালীন মানুষ’ (Definitely Evening Person) হচ্ছে এক ধরনের জৈবিক বা ক্রোনোটাইপ। এ ধরনের মানুষের মস্তিষ্কের ভেতরের ঘড়ি স্বাভাবিকভাবেই দেরিতে সক্রিয় হয়। রাতে মানসিক ও শারীরিক কর্মক্ষমতা বেশি থাকে, স্বাভাবিকভাবে দেরিতে ঘুম যায়, সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে কষ্ট হয়, ছুটি বা বাধা না থাকলে নিজের ইচ্ছায় দেরিতে ঘুমান ও দেরিতে ওঠেন। খবর দ্য খামার নিউজের।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং ব্রিঘাম অ্যান্ড উইমেনস হসপিটাল ও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষক সিনা কিয়ানার্সি বলেন, ‘সন্ধ্যাকালীন মানুষেরা প্রায়ই সার্কাডিয়ান অসামঞ্জস্যের শিকার হন। এর অর্থ হলো তাদের শরীরের ভেতরের জৈবিক ঘড়ি প্রাকৃতিক দিন-রাতের ছন্দ বা দৈনন্দিন সময়সূচির সঙ্গে মিল খুঁজে পায় না।’

গবেষণায় হৃদ্‌স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করা হয়েছে একাধিক সূচকের ভিত্তিতে-ওজন, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা, রক্তচাপ, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, ধূমপানের অভ্যাস এবং ঘুমের মান। ফলাফলে দেখা যায়, রাতজাগা মানুষদের মধ্যে দুর্বল হৃদ্‌স্বাস্থ্যের প্রবণতা ৭৯ শতাংশ বেশি। এই ঝুঁকি নারীদের ক্ষেত্রে আরও বেশি স্পষ্ট বলে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ধ্যাকালীন মানুষের জীবনযাপনে এমন কিছু অভ্যাস থাকে, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন-অনিয়মিত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ধূমপান এবং কম শারীরিক পরিশ্রম। এসব কারণে হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সুস্থ সার্কাডিয়ান ছন্দ শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। অনিয়মিত ঘুম, শিফট ডিউটি বা রাতে অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো ব্যবহারের ফলে এই ছন্দে ব্যাঘাত ঘটলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, রাতজাগা মানুষ জন্মগতভাবেই কম স্বাস্থ্যবান-এমন নয়। সঠিক জীবনযাপন, নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি মেনে চলা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও ব্যায়ামের মাধ্যমে সন্ধ্যাকালীন মানুষরাও তাদের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘নাইট আউল’দের জন্য সচেতনতা ও তাদের জীবনধারা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের সফলতা পাওয়া সম্ভবপর হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © বাংলার আজকাল
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park