1. admin@banglarajkal.com : admin :
  2. babardhaka@gmail.com : babar dhaka : babar dhaka
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় জনতা আদর্শ বিদ্যাপীঠের দুর্দান্ত সাফল্য ‘লাইফ টু ওয়ে গ্লোবাল’ এবং ‘মডার্ন ক্যানসার হাসপাতাল গুয়াংজু’র যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় ক্যানসার রোগীদের পরামর্শ যেকারণে কিছু ব্যক্তির জন্য ওজন কমানো বেশি কঠিন সাহারা মরুভূমিতে ট্রাক বিকল, তৃষ্ণায় ৪৯ জনের মৃত্যু ইরানের দুই রাডার কেন্দ্রে হামলা চালানোর দাবি যুক্তরাষ্ট্রের তপুর জোড়া গোলে সান ম্যারিনোকে হারালো বাংলাদেশ কৃষিতে সংকটের ছায়া, বাজেটে বাড়বে কি কৃষকের প্রাপ্তি? অফারে স্মার্টফোনের বিক্রি বাড়লেও দাম নিয়ে অসন্তোষ  বর্ষার আগেই মশার উপদ্রবে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু ইস্তাম্বুলে আজ নির্ধারিত হবে ইরানের বিশ্বকাপ ভাগ্য!

বিদ্যুৎ’র স্বচ্ছতা বাড়ানোর স্বপ্ন এখন ঝুঁকির মুখে

বাংলার আজকাল ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৮

২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং অবৈধ সংযোগ, চুরি ও বিল বকেয়া কমাতে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার প্রকল্প হাতে নেয়। কিন্তু ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-র অদক্ষতা, অসচ্ছতা ও পরিকল্পনাহীনতায় প্রকল্পটি এখন বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রায় চার লাখের বেশি স্মার্ট মিটার দীর্ঘদিন গুদামে পড়ে থাকায় শত শত কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রকল্পের শুরু থেকেই বিলম্বের অভিশাপ
২০১৮ সালের আগস্টে একনেক অনুমোদিত এ প্রকল্পে ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় আট লাখ ৫০ হাজার স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপনের লক্ষ্য ছিল। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৫৮ কোটি টাকা, মেয়াদ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু টেন্ডার জটিলতা, দরপত্র বাতিল, কোভিড-১৯ মহামারি, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের সরবরাহ সংকটসহ নানা কারণে কাজ পিছিয়ে যায়। ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪ কোটি টাকার বেশি। এখন আবার এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথি অনুসারে, এ পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ ৬০ হাজার মিটার আমদানি হয়েছে। কিন্তু ভোক্তা পর্যায়ে স্থাপিত হয়েছে মাত্র আড়াই লাখের কাছাকাছি। বাকি চার লাখের বেশি মিটার গুদামে পড়ে আছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মেয়াদ না বাড়ালে এসব মিটার বসানো সম্ভব হবে না এবং দীর্ঘ অব্যবহারে যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অপ্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ের জটিলতা
প্রকল্প শুরু থেকেই একের পর এক বিপত্তি। প্রথম প্যাকেজের টার্নকি চুক্তি স্বাক্ষর করতেই লেগেছে দুই বছর। বিলিং সিস্টেম (এমডিএম) যথাযথ অপটিমাইজ না করেই মিটার স্থাপন শুরু হয়। আরএফ নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (এনআইসি) আমদানি না হওয়ায় পাঁচ মাস স্থাপন বন্ধ রাখতে হয়। ফলে মিটার প্রি-পেমেন্ট মোডে কাজ করেনি, গ্রাহকদের বিল বকেয়া জমে যায়।
মাঠপর্যায়ে সাইট অধিগ্রহণ, সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে ও খুঁটিতে যন্ত্রপাতি বসানো নিয়ে স্থানীয় বাধা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিরতায় কাজ আরও মন্থর হয়। বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে ঠিকাদারদের পেমেন্ট বিলম্বিত হয়। এখনো আড়াই লাখের বেশি এনআইসি আমদানি বাকি। ফলে অবশিষ্ট মিটার বসানো অসম্ভব।

অর্থ ব্যয়ের গতি অব্যাহত, কাজ থেমে
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো আর্থিক অগ্রগতি। মাঠপর্যায়ে কাজ বাকি থাকলেও ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। স্টিয়ারিং কমিটির সভায় (বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে) সিদ্ধান্ত হয়েছে—আপাতত ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হবে। পরে ডলার বিনিময় হার ও চুক্তি সমন্বয় করে ডিপিপি সংশোধন করা হবে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে (২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত), ডিপিডিসিতে সক্রিয় প্রি-পেইড মিটারের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি। তবে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য অনুযায়ী গুদামজাত মিটারের ঝুঁকি এখনো রয়েছে। স্মার্ট মিটার স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল রিয়েল-টাইম মনিটরিং, স্বয়ংক্রিয় বিলিং, চুরি কমানো ও সিস্টেম লস হ্রাস। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থতায় এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লাখো গ্রাহক।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা: দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, “এটা ভয়াবহ দুর্নীতি। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে (আরইবি) একই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। কয়েকটি কোম্পানি এর সুফলভোগী। মাফিয়াচক্র জড়িত। দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। এটি জাতীয় ক্ষতি—তাদেরই পূরণ করতে হবে।”

প্রকল্প পরিচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোভিডসহ নানা সংকটের কারণে কিছু বিলম্ব হয়েছে। তবে সরকার মনে করে সময় বাড়ানো প্রয়োজন, তাই বাড়ানো হয়েছে। বিস্তারিত জানতে এমডির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

সময় শেষ হওয়ার আগে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ জরুরি
স্মার্ট মিটার প্রকল্প বিদ্যুৎ খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম স্তম্ভ। কিন্তু অদক্ষতা ও অপ্রস্তুতির কারণে এটি এখন ‘অচল সম্পদে’ পরিণত হওয়ার পথে। বারবার মেয়াদ বাড়ানো হলেও মাঠপর্যায়ের সমস্যা সমাধান না হলে গুদামের লাখ লাখ মিটারই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে উঠবে। সরকারের উচিত দ্রুত বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে এনআইসি আমদানি ত্বরান্বিত করা, সাইট জটিলতা দূর করা এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা। না হলে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ বিফলে যাবে এবং বিদ্যুৎ খাতের সংস্কারের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © বাংলার আজকাল
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park