
এই মৌসুমে দেশে জ্বর এবং তীব্র শরীর ব্যথায় ভুগছেন বহু মানুষ। কয়েকদিন প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেয়েও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। অথচ রক্ত পরীক্ষার পর ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার রেজাল্ট নেগেটিভ আসছে অধিকাংশেরই।
তবে কি দেশে নতুন কোনো ভাইরাসের আগমন ঘটছে বা ছড়াচ্ছে? যার জেরে শরীরে জেঁকে বসে থাকছে জ্বর এবং তীব্র ব্যথা।
এমনই একজন রোগী জাহিদুল ইসলাম, যিনি কিনা সদ্য পাস করা একজন চিকিৎসকও। তিন থেকে চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। শরীরের তাপমাত্রা উঠেছিল ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত। সঙ্গে ছিল প্রচণ্ড শরীরব্যথা, মাথাব্যথা এবং এক ধরনের শুষ্কতার অনুভূতি।
উপসর্গ দেখে প্রথমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন জাহিদুল ইসলাম। জ্বরের দ্বিতীয় দিনেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান তিনি। কিন্তু পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়নি। বুকের এক্স-রেতেও কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। শুধু রক্তে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন বা সিআরপির মাত্রা সামান্য বেশি পাওয়া যায়, যা শরীরে সংক্রমণ বা প্রদাহের ইঙ্গিত দিতে পারে।
তবে এতসব পরীক্ষার পরও ঠিক কী কারণে জ্বর হয়েছিল, তা শনাক্ত করা যায়নি। জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসক তখন এটিকে ভাইরাসজনিত জ্বর বলে ধারণা করেছিলেন। তাই ভাইরাল জ্বর হিসেবেই চিকিৎসা নিয়েছি।’
জ্বর তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সেরে গেলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও সময় লেগেছে বলে জানান এই নয়া চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘জ্বর চলে যাওয়ার পরও প্রায় সাত দিন শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি ছিল। এবারের জ্বরের অভিজ্ঞতা কিছুটা আলাদা। বিশেষ করে শরীরে শুষ্কতা, ক্লান্তি ও অবসাদ বেশি অনুভব করেছি।’
বিজ্ঞাপন
দেশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত এই চিকিৎসক জানান, তার অনেক সহকর্মী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় নিজের জ্বর নিয়েও শুরুতে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতেই ওষুধ ও বিশ্রাম নিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।
জাহিদুল ইসলামের মতো বর্তমানে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা ও দুর্বলতার উপসর্গ নিয়ে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন। কিন্তু পরীক্ষা করানোর পরও কারও কারও নির্দিষ্ট কোনো রোগ শনাক্ত হচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, এসব জ্বরের পেছনে কি নতুন কোনো ভাইরাস রয়েছে? নাকি পরিচিত ভাইরাসগুলোর সংক্রমণই এর কারণ?